নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালিয়াপাড়া এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী একরামুল হক।
তৎকালীন সময়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একরামুলকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ইয়াবার গডফাদার হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানানো হয়।
তবে একরামের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ করা হয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একরামের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যুর খবর আসে।
একরামুল নিহত হওয়ার সময়কার একটি অডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ওই অডিওকে কেন্দ্র করে র‌্যাবের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও বিচারিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে একরামুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
একরাম হত্যার সময় র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার পাশাপাশি কক্সবাজারে র‌্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক মিফতা উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।
এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ায় দীর্ঘদিনের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts