নিউজ প্রবাসী ডেক্স ::
চট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই: দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হচ্ছে। প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে উঠতে যাওয়া এ শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শিল্প কারখানার জন্য আধুনিক সড়ক, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সংরক্ষণাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এবং বহুমুখী জেটিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা দেয়াল, দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ২৫ এমএলডি সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এবং ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটির অবস্থানগত গুরুত্ব অনেক বেশি। কর্ণফুলী টানেলের কাছাকাছি হওয়ায় এর মাধ্যমে টানেলের ব্যবহারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেজার দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অন্তত ৫০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে রাসায়নিক, অটোমোবাইল, পোশাক, ওষুধ, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল ও ভারী শিল্পসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকল্পের সুফল পেতে বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত সেবা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ, সহজ কাস্টমস ব্যবস্থা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি। এসব নিশ্চিত করা গেলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন ও নগরায়নের গতি বাড়বে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর গত ১৬ জুন একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এটি বাংলাদেশে প্রথম বিশেষায়িত জি-টু-জি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts