নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের হাসপাতালগুলোতে উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে পেশাজীবীদের রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বঙ্গভবনে হেপাটোলজি সোসাইটির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়।
হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় দেশে লিভার রোগের চিকিৎসা, লিভার প্রতিস্থাপন এবং ফ্যাটি লিভার ও হেপাটাইটিস-বির সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে লিভার প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস-বি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান।
আসন্ন এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
শিশুদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে বঙ্গভবন
দেশের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিয়মিত বঙ্গভবন পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন রাষ্ট্রপতি। ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস জড়িয়ে থাকায় শিশুদের জন্য এটি শিক্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ পরিকল্পনার কথা জানান। সংগঠনটির সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন শুধু রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নয়; এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। এখানে বিভিন্ন প্রাণীর বসবাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শিগগিরই স্কুলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব
সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, এসব অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় তুলে ধরার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার মোকাবিলায় পেশাদার গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জেলাটিকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
অসচ্ছলদের চিকিৎসায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান
এদিন বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবে।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে উন্নতমানের কোলন ও রেক্টাল সার্জারি করা হচ্ছে। ফলে এ ধরনের চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বঙ্গভবনে এসব সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।