নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি আলোচনায় বসলে সেগুলোর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে হবে।
বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
তারেক রহমানের দিল্লি সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়গুলো এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের নেতাদের পাশাপাশি তাদের সংশ্লিষ্ট দলগুলোকেও প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। তবে নেতারা একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে কোনো প্রশ্নই অমীমাংসিত থাকার কথা নয়—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবারও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার কথা জানিয়েছিলেন ভারতের হাইকমিশনার। ওই দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেছিলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমন্ত্রণ রয়েছে; সফরের সময় হলে তা হবে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ত্রিবেদী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেই পারস্পরিক যোগাযোগ ও নির্ভরতার আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ত্রিবেদী বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।