আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নৌ ও আকাশপথে বাণিজ্যিক বাধার মধ্যে এবার স্থলপথেও সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। প্রতিবেশী পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্কের সীমান্তে কড়াকড়ি এবং পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, তিন প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা ইরানের স্থলপথে পণ্য পরিবহনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এর ফলে দেশটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধের প্রভাবের মধ্যেই স্থলসীমান্তে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্কের সীমান্তে বিধিনিষেধের কারণে ইরানের বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত খোলা থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে এসব পথ দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ লেনদেন ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্ত ক্রসিংয়ে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

বর্তমানে ওই দুই সীমান্ত দিয়ে ইরানি গ্যাসবাহী ট্যাংকার এবং পচনশীল ফল ও সবজির চালান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ চোরাচালান ঠেকানো ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

অন্যদিকে ইরাকের চাজাবেহ ও আল-শাইব সীমান্তসংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষের দাবি, মাদক পাচার ও জাল মুদ্রা সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে সীমান্তপথে বাণিজ্য আরও সীমিত করতে ইরাক সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে বলেও ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপের সঙ্গে ইরানের স্থলবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাজারগান সীমান্তেও বিধিনিষেধ বেড়েছে। তুরস্কের এই সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে আগে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২০০ থেকে ৩০০টি ইরানি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সীমান্তে এ ধরনের বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা ইরানি ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে উল্লেখ করা আলী রেজাইয়ের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, এ ধরনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটির অর্থনীতি, বিশেষ করে বিনিয়োগ খাতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts