নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি ও গম আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, পণ্যের দাম ছাড়াও অপচয় কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা বিবেচনা করেই সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১১৭টি এলএনজি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দিনে বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে এর গড় দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ৯ ডলার দাঁড়ায়। সরকারের কাছে প্রস্তাবটি সুবিধাজনক মনে হওয়ায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গম আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে একটি কার্যকর উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, অন্য কয়েকটি উৎসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের গমে অপচয়ের হার কম হওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হতে পারে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো পণ্য কেনার সময় শুধু তাৎক্ষণিক মূল্য দেখলে প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না। পণ্যের অপচয়, ব্যবহারযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাও বিবেচনায় নিতে হয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন কিংবা ভারত—যেখান থেকেই পণ্য কেনা হোক না কেন, দেশের স্বার্থ ও পণ্যের গুণগত সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বা এআরটি সই হয়। চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে এবং ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts