নিউজ প্রবাসী ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ইরানে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার কথা জানালেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ এবং দেশটির তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানে হামলা চালাবে না। তাঁর দাবি, তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এসব আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
তবে হামলা স্থগিতের ঘোষণার পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইরানের কথিত ‘ছায়া বহরের’ ১৭টি জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় বিপুল পরিমাণ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে জড়িত বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
নির্বাচনের আর মাত্র ২৬ দিন বাকি থাকায় ইরানকে ঘিরে সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনে। নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে রিপাবলিকান পার্টি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের একটি জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর ঘোষণা এলেও ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত রাখছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
এদিকে সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে গত মাসে তেহরান একটি প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। পরে ওয়াশিংটন পাল্টা প্রস্তাব পাঠায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণায় নির্বাচনের আগে সরাসরি সামরিক হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক প্রস্তুতি বহাল থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এখনো কাটেনি।