নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনায় এবার চীনের ভূমিকা এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বেইজিং বলছে, আগাম সতর্কতা না দেওয়ার কারণে নেপালে প্রাণহানি ঘটেছে—এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হিমবাহের বরফ ও পাথরের বড় ধরনের ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল কাদা ও পানির স্রোতে নেপাল ও চীনের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১৭৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগের পর নেপালে প্রশ্ন উঠেছে, চীনের উন্নত স্যাটেলাইট ও নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব ছিল কি না এবং ভাটির দিকের মানুষকে সময়মতো সতর্ক করা যেত কি না। পাশাপাশি চীনের ভূখণ্ডে কোনো প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসের কারণেও বিপর্যয় তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে নেপালে চীনা দূতাবাস এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, নেপালের দিকেই হিমবাহ-সম্পৃক্ত ধসের ঘটনা ঘটে প্রবল কাদার স্রোত সৃষ্টি হয়। চীনের ভাষ্য, এ ধরনের দুর্যোগে দোষারোপ নয়, পারস্পরিক সহযোগিতাই মানুষের জীবন রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে স্যাটেলাইট ছবি ও প্রাথমিক বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে নিচের উপত্যকায় নেমে আসার সম্ভাবনাকে বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটির সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts