আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালের গোরখা জেলায় বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ভেসে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে সৃষ্ট এ বন্যায় চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।

স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে নদীর পানি উপচে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বন্যার পানিতে ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ও বিভিন্ন সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের কারণে চুমনুব্রি সিয়ারি নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি জমে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে জমে থাকা পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশ ও স্থলপথে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে ছয়জনকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গোরখা জেলা পুলিশ কার্যালয়ের পরিদর্শক আকাশ কান্দেলের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যার আশঙ্কায় ধারছে গ্রামীণ পৌরসভার সিরদিবাস, খোরলাবেসি, মাচ্ছাখোলা, সোতি, আরখেত ও আরুঘাট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রধান নির্বাহী ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, উজান থেকে বন্যার পানি আরুঘাটে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে। এ সময়ের মধ্যে ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের সতর্ক করতে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে।

সিরদিবাস, জগৎ, ইয়ারি, তাতোপানি, সোতি ও আরুখোলা এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু হওয়া ওই বন্যায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ৫ অক্টোবর দেশটির সরকার জানায়, আগের ওই বন্যায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৩ হাজার ৭৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছিল।

নতুন করে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে বন্যার ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় নদীর ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে নেপালের প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts