নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বুড়িরহাট নৌকার বাজারে এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। বর্ষা শুরু হলেও নদ-নদীর পানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়ায় ক্রেতার উপস্থিতিও কম। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে খুব শিগগিরই হাটে ফিরবে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য।
প্রতি মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা সীমান্তবর্তী বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠমিস্ত্রিরা নতুন ও পুরোনো নৌকা নিয়ে আসেন। বর্তমানে প্রতিটি হাটে প্রায় অর্ধশত নৌকা বিক্রির জন্য তোলা হলেও বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও বহু আগে থেকে এ হাটের প্রচলন। অন্তত একশ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ষা মৌসুমে এটি এলাকার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
হাটে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকায় নতুন এবং ৪ থেকে ৮ হাজার টাকায় পুরোনো নৌকা বিক্রি হচ্ছে। একটি নৌকা তৈরি করে কারিগরদের গড়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ হয়। তবে লাভ কমে যাওয়ায় অনেক দক্ষ কারিগর ইতোমধ্যে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
কাঠমিস্ত্রি অনিল মাল জানান, তাদের পূর্বপুরুষরাও এই হাটে নৌকা বিক্রি করতেন। এখনও বর্ষা মৌসুম এলেই তারা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে বিক্রি বাড়লে তবেই প্রকৃত লাভের মুখ দেখা যাবে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ধারণা, বর্ষার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিচু এলাকা প্লাবিত হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের নৌকার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তখনই শতবর্ষী এই নৌকার হাট আবারও সরগরম হয়ে উঠবে।