নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অভিযোগে বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর চা-রুটি খাইয়ে আলোচনায় আসা নয় বছরের তুবা বিনতে অর্নি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শিশুটির পড়াশোনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
তুবার বাবা অনিক সরদারকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সোমবার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, ডোপ টেস্টে অনিকের শরীরে মাদক সেবনের উপস্থিতি পাওয়ার পর তাকে বরিশাল নগরের বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র নিউ লাইফে পাঠানো হয়। সেখানে দুই থেকে তিন মাস তার চিকিৎসা চলবে।
অনিক পশ্চিম বামরাইল গ্রামের বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে বাড়ি থেকে নিউ লাইফে নিয়ে যান। কেন্দ্রটির চেয়ারম্যান মর্তুজা জুয়েল জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় অনিকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে নিউ লাইফ।
এর আগে শুক্রবার রাতে পশ্চিম বামরাইল এলাকায় চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা অনিককে আটক করেন। পরে বামরাইল বাজারে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পরদিন সকালে সেখানে ছুটে যায় তার নয় বছরের মেয়ে তুবা। বাবাকে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে চা ও রুটি নিয়ে বাবাকে নিজের হাতে খাওয়ায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তির কারণে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে অনিক পড়ে থাকা জিনিসপত্র চুরি করতেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইউএনও আলী সুজা জানান, অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস যাতে বাড়িতে থেকেই কাজ করে আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তুবার পড়াশোনার বিষয়েও বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও বলেন, তুবা যে স্কুলে পড়ে সেখানে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা শিশুটির পড়াশোনায় বিশেষ নজর রাখবেন।
তুবার নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ইউএনও। দেশ-বিদেশের অনেকে শিশুটিকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তার নামে স্থায়ী আমানত করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।
নিউ লাইফের চেয়ারম্যান মর্তুজা জুয়েল বলেন, তুবার বাবা বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।