নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলা এবং লুটপাটের মামলায় আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামির জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম পৃথক শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন মিন্টু ও মিলন। পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে থেকে মিন্টুকে এবং ওই রাতেই শাহ আলী থানার গুদারাঘাট এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই আতোয়ার রহমান দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। মিলনের পক্ষে আইনজীবী ঈসমাইল হোসেন জামিনের আবেদন করেন এবং মঙ্গলবার শুনানির সময় চান। মিন্টুর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত মিলনের জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রেখে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অন্যদিকে কারাগারে থাকা শাহ আলম, আতিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন ও কামরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান হোসাইন জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন। এই পাঁচজনকে দুই দিন আগে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে শনিবার সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান ও রাব্বি নামে আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ফলে এ মামলায় আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো আসামির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা-শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসা একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডার একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ লেখা একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যান।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলাটি করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একদল লোক হাতুড়, লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকে। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বিভিন্ন সেমিপাকা ভবন ও কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আসবাব ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাড্ডার পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় অফিসের সামগ্রী ও বিপুল পরিমাণ টিকাদান সামগ্রী লুট করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts