নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে অংশীদারত্বে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সে পড়াশোনার পাশাপাশি বৃত্তি, টিউশন সহায়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করলে চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের কর্মসংস্থানমুখী কোর্সকে ‘কন্ট্রাক্ট ডিপার্টমেন্ট’ বলা হয়। এসব প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোর্সের কাঠামো তৈরি, আর্থিক সহায়তা এবং দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমে যুক্ত থাকে।
সোগাং ইউনিভার্সিটির সিস্টেম সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চার বছর মেয়াদি একটি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এসকে হাইনিক্সের অংশীদারত্বে। নির্দিষ্ট একাডেমিক শর্ত পূরণ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স শেষে কোম্পানিটিতে চাকরির নিশ্চয়তা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি সহায়তার পাশাপাশি মাসিক প্রায় ৩ লাখ কোরিয়ান ওয়ান পর্যন্ত পড়াশোনার ভাতাও পেতে পারেন।
তবে এসব সুবিধার সঙ্গে কিছু শর্তও রয়েছে। এসকে হাইনিক্সের সংশ্লিষ্ট কোর্সে বৃত্তি ধরে রাখতে নির্দিষ্ট জিপিএ বজায় রাখতে হয় এবং চাকরির জন্য আরও উচ্চ জিপিএ প্রয়োজন। কোর্স মাঝপথে ছেড়ে দিলে পাওয়া আর্থিক সহায়তার অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
অন্যদিকে, সাংইয়ংকিউভয়ান ইউনিভার্সিটিতে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সহযোগিতায় পাঁচ বছর মেয়াদি এআই সফটওয়্যার বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রথম কয়েক বছর টিউশন সহায়তা দেওয়া হলেও চাকরি নিশ্চিত করতে স্যামসাংয়ের পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়া পার হতে হয়।
এসকে হাইনিক্স কোরিয়া ইউনিভার্সিটি ও হানইয়াং ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করছে। স্যামসাংয়ের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ইয়োনসি ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেএআইএসটি) এবং উলসান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
জংরো একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্যামসাং-সংশ্লিষ্ট কন্ট্রাক্ট বিভাগগুলোতে আবেদন বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে যুক্ত কোর্সগুলোতে আবেদন বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। সামগ্রিক হিসাবে স্যামসাংয়ের প্রতিটি আসনের বিপরীতে ১৩ দশমিক ৪৪ জন এবং এসকে হাইনিক্সের কোর্সে ৯ দশমিক ১৪ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।
এসব কোর্সে কোম্পানিগুলো শুধু চাকরির সুযোগই তৈরি করছে না, শিক্ষাক্রম ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণেও যুক্ত থাকছে। শিক্ষার্থীরা কোম্পানির কার্যালয় পরিদর্শন, বিশেষ সেমিনার ও প্রযুক্তিবিষয়ক লেকচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।