নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কোনো তারাকে গ্রাস করার পর ব্ল্যাক হোল কখন মহাশূন্যে শক্তিশালী জেট বা বস্তুর স্রোত ছুড়ে দেয়—এতদিন বিষয়টি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। নতুন এক গবেষণায় সেই রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
Nature Astronomy-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কোনো তারাকে ছিন্নভিন্ন করে গ্রাস করার পর নির্দিষ্ট দুটি পর্যায়ে শক্তিশালী জেট বা প্রবাহ তৈরি করতে পারে। গবেষকরা ২০টি ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’ বা ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষে তারা ছিন্নভিন্ন হওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেছেন।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো তারা ব্ল্যাক হোলের খুব কাছে চলে গেলে প্রবল মহাকর্ষীয় টানে সেটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এ ঘটনাকে বলা হয় ‘টাইডাল ডিসরাপশন’। তারার সব উপাদান ব্ল্যাক হোল গিলে ফেলে না; একটি অংশ জেট বা বহির্মুখী প্রবাহের মাধ্যমে মহাশূন্যে ছিটকে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জেট নির্গমনের একটি পর্যায় ঘটে যখন ব্ল্যাক হোল অত্যন্ত দ্রুত হারে পদার্থ গ্রহণ করে। আরেকটি পর্যায় দেখা যায় কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার দিন পর, যখন তার পদার্থ গ্রহণের হার এডিংটন সীমার প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসে।
গবেষকদের মতে, এই প্রায় ২ শতাংশ সীমা শুধু সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই নয়, অনেক ছোট নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোলের জেট তৈরির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। অর্থাৎ ব্ল্যাক হোলের আকার ভিন্ন হলেও জেট তৈরির পেছনে একই ধরনের একটি মৌলিক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডেল গুডউইন এবং ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডির গবেষক অ্যান্ড্রু মামেরি। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতে কোনো ব্ল্যাক হোল কখন জেট ছুড়তে পারে তা অনুমান করতে সহায়তা করবে এবং টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা রসিকতার ছলে ব্ল্যাক হোলের এই জেট নির্গমনকে ‘ঢেকুর তোলা’ বলে বর্ণনা করছেন। তবে এর পেছনে থাকা প্রক্রিয়াটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলোর একটি এবং তা ছায়াপথের পরিবেশ ও বিবর্তনেও প্রভাব ফেলতে পারে।