আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে মহাকাশকে যুদ্ধের ক্ষেত্র বানানো এবং সেখানে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ অবস্থানের কথা জানান।
এর আগে সোমবার মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, কক্ষপথে প্রতিপক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সক্ষম ‘স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ত্রটির ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরত থাকা উচিত। মহাকাশের অস্ত্রায়ন নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বেইজিং।
অন্যদিকে মার্কিন স্পেস ফোর্সের বক্তব্যে চীন ও রাশিয়াকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণকারী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। রাশিয়াও ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘স্পুটনিক’ উৎক্ষেপণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা তৈরির প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে।
পরে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন ঠেকাতে ১৯৬৭ সালে ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ স্বাক্ষরিত হয়। তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারত সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts