নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে যে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের কার্যালয় কয়েক মাস আগে সিলগালা করেছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক, সেই ক্লাবকেই এখন পার্কটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত পার্কের ভেতরে ইয়ুথ ক্লাবের কার্যালয় সিলগালা করে। অভিযোগ ছিল, অনুমোদন ছাড়াই ক্লাবের কার্যালয় ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে হাই কোর্টের রায়ে পার্কের জায়গা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এর মূল চরিত্র ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে গত ২৫ এপ্রিল রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক—এমওইউ সই হয়। এর মাধ্যমে পার্কের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্লাবটিকে।
এদিকে প্রায় ৮ দশমিক ৮৭ একর আয়তনের পার্কটির বিভিন্ন অংশে টেনিস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, ফুটবল টার্ফ, সুইমিং পুল ও জিমনেসিয়াম রয়েছে। এসব সুবিধা ব্যবহারে নির্ধারিত ফি দিতে হয়। এ নিয়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের অভিযোগ, জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত পার্কের একটি বড় অংশ কার্যত নিয়ন্ত্রিত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের আওতায় চলে যাচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, জনগণের অর্থে উন্নয়ন করা পার্কে প্রবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। তাদের অভিযোগ, এমওইউয়ের মাধ্যমে পার্কের ব্যবস্থাপনা একটি নির্দিষ্ট ক্লাবের হাতে দেওয়ার ফলে জনসাধারণের অবাধ প্রবেশাধিকার সংকুচিত হচ্ছে।
তবে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলামের দাবি, ইয়ুথ ক্লাবকে কোনো ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলতেই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ফি নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো স্থাপনা বা কার্যক্রম রাজউকের অনুমোদন ছাড়া করা হলে চুক্তি বাতিলের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তমালের দাবি, পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। সেই ব্যয় মেটাতেই কিছু সুবিধার জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশ, পার্কের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা এবং জনসাধারণের অবাধ ব্যবহারের অধিকার—এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে গুলশান পার্কের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts