নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রুহুল আমিন পলাশ। শারীরিকভাবে অসুস্থ ওই আসামিকে মঙ্গলবার স্ট্রেচারে করে এজলাসে তোলা হয়।
চার কোটি তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
আসামির আইনজীবী মো. রমজান আলী রিপন আদালতকে জানান, রুহুল আমিন পলাশ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। স্নায়ুজনিত সমস্যায় তার কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে এবং তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।
আইনজীবী আরও বলেন, তার মক্কেল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কাজ করতেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন। অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে বিচারক আসামির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত বলেন, এ অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানো হলে হাসপাতালে বা কারা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরে আসামিপক্ষ কয়েক মাস চিকিৎসার সুযোগ চায়। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে আবার আত্মসমর্পণের কথা জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দি ফারমার্স ব্যাংকের জামালপুরের বকশীগঞ্জ শাখা থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
মামলায় পদ্মা ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তার মেয়ে রিমি চিশতীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধান মাসুদুর রহমান খানকেও আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে মাগুরার মোহাম্মদপুরের দোহিল গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
আদালত থেকে বের হওয়ার পরও তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাবা রেজাউল করিম ও স্ত্রী।
রেজাউল করিম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার ছেলে অসুস্থ। কয়েক বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না।
তিনি দাবি করেন, ব্যাংকসংক্রান্ত মামলায় তার ছেলে জড়িত নন এবং তিনি ন্যায়বিচার চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts