নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও উন্মুক্ত—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রয়েছে এবং তেহরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
আইআরজিসির দাবি, বিশ্ব তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতেই প্রণালিতে নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন তথ্য তুলে ধরছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং জলপথে থাকা মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ পারাপার হতো, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে এবং জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়। যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ও নতুন রপ্তানি পথ তৈরির উদ্যোগ জোরদার করছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল এবং এ-সংক্রান্ত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
চলমান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ ও জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্য কমে যাওয়ার মধ্যেই দেশটির নেতৃত্ব জনগণকে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।