নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মাত্র এক দশক আগেও চীনের রোবট প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের আয়োজনের মধ্যে। এখন সেই প্রতিযোগিতাই পরিণত হয়েছে দেশটির প্রযুক্তি সক্ষমতা প্রদর্শনের বড় মঞ্চে।
বেইজিংয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের এবারের আসরে খেলাধুলার পাশাপাশি বাস্তব কাজেও রোবটের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ফুটবল, দৌড় ও নাচের মতো ইভেন্টের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়িতে চার্জার সংযোগ, পণ্য সরানো, রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানার কাজের মতো পরীক্ষাও রাখা হয়েছে।
একসময় নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা ছোট চাকাযুক্ত রোবট দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে এখন মানুষের মতো হাঁটা, দৌড়ানো ও সূক্ষ্ম কাজ করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করছে চীন।
২০২৫ সালে বেইজিং হাফ-ম্যারাথনে অংশ নেওয়া রোবটগুলোর অনেকেই দৌড় শেষ করতে পারেনি। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় একটি হিউম্যানয়েড রোবট কোনো মানুষের সহায়তা ছাড়াই হাফ-ম্যারাথন শেষ করেছে।
১০০ মিটার দৌড়েও চমক দেখিয়েছে চীনের রোবট। ‘তিয়াংগং আল্ট্রা’ ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে, যা উসাইন বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত।
চীনের রোবট শিল্পের এই অগ্রগতির পেছনে সরকারি সহায়তা, গবেষণায় কর সুবিধা এবং কম দামে যন্ত্রাংশ পাওয়ার সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দ্রুত দৌড়ানো নয়—মানুষের মতো বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই হবে হিউম্যানয়েড রোবটের ভবিষ্যৎ সাফল্যের বড় পরীক্ষা।