নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা দাবির সত্যতা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এসব হামলার কথা জানান। তিনি বলেন, ইয়েমেনের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইয়াহিয়া সারির দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। আবকাইকে সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানিয়েছে হুতি। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরানে সৌদি সেনাদের একটি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায় সংগঠনটি।
হুতি মুখপাত্রের ভাষ্য, সৌদি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সৌদি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।
ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ নীতির আওতায় তাদের পাল্টা অভিযান চলবে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইয়েমেনের আল-জাওফ ও তাইজ গভর্নরেটে সৌদি বিমান হামলায় ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশির ভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানানো হয়। নিহতদের অধিকাংশ নারী ও শিশু বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
হুতি মুখপাত্রের আরও দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ছয়টি গভর্নরেটে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সৌদি বাহিনী ১১৬টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।