নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন শর্ত ও নির্দেশনা ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর এ ঘোষণা এলো, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারসের বরাতে জানা গেছে, ‘উপসাগরীয় জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দিলে জাহাজগুলোকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে ইচ্ছুক জাহাজকে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে না। নিরাপত্তা, পরিবেশগত সেবা এবং সংশ্লিষ্ট বিমা ব্যয় ইরান সরকার বহন করবে। তবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি মেনে চলতে হবে; অন্যথায় সব দায়ভার জাহাজ মালিকের ওপর বর্তাবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্নস্তর।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।