আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ওপর আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হবে। যদিও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে সামরিক সরঞ্জামের গুদামেও হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।