নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে ১৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ আরও কমে গেছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস মিলছে না।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় গ্যাস না থাকায় ভোরে কিংবা গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তিতাস গ্যাসের পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করছে, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং পাইপলাইনের পানি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।
তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস লিকেজ, গ্যাস না থাকা এবং স্বল্পচাপ নিয়ে আট হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। পুরোনো পাইপলাইন বদলে আধুনিক বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার একটি বড় প্রকল্প থাকলেও সেটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে রাজধানীর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।