নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী।
রোববার দুদকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের জামিনের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে কমিশনের কাছে আলাদা কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যেমন মিডিয়ায় জানছেন, আমরাও তেমনই জানছি। আইনি যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নেবে।”
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শিবলী বলেন, তার এমনটি মনে হয় না। তিনি দাবি করেন, দুদক প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে।
তিনি জানান, আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। দুদক প্রয়োজনীয় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়।
কোন আইনি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বেনজীর আহমেদকে জামিন দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও উল্লেখ করেন দুদকের মহাপরিচালক।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত শর্তসাপেক্ষে বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না।
এদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা জানিয়েছে, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছেনি।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ওই আদেশ বাতিলের জন্য দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্ত করছে দুদক। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়। পরে সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।