নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শিক্ষকের নাম শনাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কী প্রক্রিয়ায় এসব শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের আইনি ভিত্তি কী—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষককে নিয়ে একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন ও আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ইকরামুল হক।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে; নিজেরা কোনো তালিকা তৈরি করেনি।
তবে তালিকায় থাকা অন্তত তিন শিক্ষক দাবি করেছেন, তারা এ ধরনের কোনো গোপন তৎপরতা বা টেলিগ্রাম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মশিউর রহমান ও অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিত রয়েছেন।
অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, তার কোনো টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টই নেই। আর অধ্যাপক আব্দুল মুহিতের দাবি, একই নামের অন্য একজন শিক্ষকের সঙ্গে নামের মিল থাকায় ভুল করে তাকে তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে তদন্ত কমিটি গঠনের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও আইনজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কেবল সংবাদ প্রতিবেদন বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে অভিযুক্ত করা যায় না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নিতে পারে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা করে শিক্ষকদের তালিকা করা বা কমিটি গঠন আইনগতভাবে বৈধ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। রাজনৈতিক মতামতের কারণে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে কমিটি গঠন করতে পারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখতেই কমিটি করা হয়েছে। অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়লে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।