নিউজ প্রবাসী ডেক্স: ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে গত এক দশকে দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা মিলে ব্যয় করেছে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি। ড্রেন নির্মাণ, খাল পরিষ্কার, সংস্কারসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারি বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে ডুবে থাকে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর বাইরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দুই সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল আরও ১৬৫ কোটি টাকা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সমস্যার বড় কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন। কোথাও নতুন ড্রেন তৈরি হলেও পানি শেষ পর্যন্ত বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সুফল মিলছে না। আবার অনেক ড্রেন ও খালে বর্জ্য ও পলিমাটি জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজধানীতে বর্তমানে জলাবদ্ধতার ১৪১টি হটস্পট রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০৮টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৩টি স্থান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা নতুন ড্রেন নির্মাণ যথেষ্ট নয়। খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, পানি ধরে রাখার স্থান তৈরি এবং বৃষ্টির পানি বের হওয়ার প্রাকৃতিক পথগুলো উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থায় যাওয়ার পরও সমন্বয়ের ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি। ঢাকা ওয়াসা থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও বিভিন্ন অবকাঠামো ও খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, পানি সংরক্ষণের জায়গা তৈরি এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।