নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূলের পরিচিত জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া দুই পক্ষকে মাঠে নামার পরিস্থিতি তৈরি হয়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরসহ আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কমিশন জানিয়েছিল, দলটির সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই মূল দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে বিকল্প তিনটি নাম ও তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই বিরোধের একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। দুই পক্ষই তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিচয় ও দলীয় প্রতীকের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঘাসের ওপর দুটি ফুলের প্রতীকটি তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।
তবে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্রপাত সাম্প্রতিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। মমতা শিবিরের দাবি, জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের মাধ্যমে নতুন পদাধিকারীদের নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই সিদ্ধান্তের সাংগঠনিক বৈধতা নেই।
এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নেও। একই দলীয় পরিচয়ে দুই পক্ষের প্রার্থী মনোনয়ন জমা পড়ায় নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রতীক ও নাম ব্যবহারের বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে।
কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর দুই পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও খামের প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
তৃণমূলের দলীয় প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা একটি সাংগঠনিক ও নির্বাচনী বিরোধে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নিতে হচ্ছে।