নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক পর্বে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। সেখানে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।
পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও একাধিক আয়োজনে অংশ নেবেন তিনি। এসব আলোচনায় জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সূচিতেও ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।
সফরের সময়ে কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রয়েছেন।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে দেশের অবস্থান বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।