নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও এ পথে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে নিহত বা নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। অর্থাৎ আগমন কমার বিপরীতে সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানি বেড়েছে। একই সময়ে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন—অর্থাৎ আগমন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।
সংস্থাটি বলছে, অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতালিগামী কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের আগমন ৫৫ শতাংশ কমলেও প্রাণহানি বেড়ে ৮৪৪ থেকে ৯৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গ্রিসগামী পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটেও আগমন কমেছে, তবে প্রাণহানি ২৮৪ থেকে বেড়ে ৪১৭ জন হয়েছে। স্পেনগামী আটলান্টিক ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৮৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্র থেকে অন্তত ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অনিরাপদ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযানে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করছেন অনেকে। এসব নৌযান প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, ইউরোপে সমুদ্রপথে আগমন কমলেও মানুষের প্রাণহানি বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। সংস্থাটি মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি সমুদ্রে জীবন রক্ষা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
আইওএমের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব।