নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশটির হাসপাতালগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গত ২৬ আগস্টের ওই ঘটনায় একটি নার্সারি ওয়ার্ডে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি জানায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নার্সারি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তদন্তে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারিগরি উৎস তখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। তবে অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন, উদ্ধার পরিকল্পনা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সমন্বয়ে গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিআইএমএস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাসপাতালে আগুনের এই ঘটনা পাকিস্তানের জনসেবা খাত, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ঋণ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি কর আদায়ের সীমাবদ্ধতা ও দুর্নীতির অভিযোগও সরকারি সেবায় অর্থসংস্থানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দুর্নীতির কারণে দেশটি প্রতিবছর জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ হারাচ্ছে।
ইসলামাবাদের এই অগ্নিকাণ্ডের পর দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তদন্তে উঠে আসা ঘাটতিগুলো কেবল তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তাই আগুনের সূত্রপাতের কারণের পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। তদন্ত কমিটির পরবর্তী প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত দায় ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts