
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থিক খাতকে ‘নাজুক’ উল্লেখ করে তা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং খাত ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি কাটাতে আগামী দুই বছরের জন্য একটি আর্থিক ‘কুশন’ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংক বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থ পাচার ও অনিয়মের কারণে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতও তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর। তার মতে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল না হলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব নয়, যা এখন ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে মুদ্রার মান কমে যাওয়া ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত বড় ধরনের মূলধন হারিয়েছে।
সরকার মনে করছে, ব্যাংকিং খাতে নতুন মূলধন জোগান এবং বেসরকারি খাতকে সহায়তা দেওয়াই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংক-এর সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করতে হবে, এরপর ধীরে ধীরে কর-জিডিপি বাড়ানো সম্ভব হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি আবারও গতিশীল হবে।