নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। কৃষক যেখানে প্রতি কেজি মরিচ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন, সেখানে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। অর্থাৎ ক্ষেত থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে দাম বেড়ে যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে সময়মতো আমদানির অনুমতি না থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। যদিও সম্প্রতি সরকার মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে, তবে বাজারে এর প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগবে।
মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা জানান, টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কমে গেলেও কৃষকেরা উচ্চমূল্যের তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না, কারণ বিক্রির মতো পর্যাপ্ত মরিচ নেই।
ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আড়তদারদের দাবি, আগে প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক মরিচ এলেও এখন আসছে মাত্র ৪-৫ ট্রাক। এ কারণে পাইকারি দাম বেড়ে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ২১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মৌসুমের বাইরে কাঁচা মরিচ উৎপাদন বাড়াতে বস্তায় চাষ ও পলিনেট হাউসের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ সফল হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বাজারে দামের অস্থিরতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts