নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দিল্লিতে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ এবং ভোট কারচুপি প্রতিরোধসহ ১০ দফা দাবিতে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
সোমবার দিল্লিতে পুলিশের বাধার মুখেও মিছিল চালিয়ে যান বিরোধী নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পৌঁছান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আবেদনে ১০টি বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
তবে বিরোধী নেতাদের আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি সূর্য কান্ত। এর আগে প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিরোধীদের উত্থাপন করতে চাওয়া বিষয়গুলো ইতিমধ্যে আদালতে বিচারাধীন এবং সেগুলোর শুনানি চলছে।
আবেদনে যে ১০টি দাবি
বিরোধী নেতাদের আবেদনে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১. নথিপত্র জমা: এসআইআর-সংক্রান্ত সব ফাইল, চুক্তি, বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং উত্থাপিত আপত্তির নথি আদালতে জমা দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া।
২. সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইন, সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
৩. অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের কাজে কোনো কর্মকর্তা সংবিধানবহির্ভূত পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. আপত্তির নথি সংরক্ষণ: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত আপত্তিগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া।
৫. ফর্ম-৬ সংশোধনে বিধি মানা: নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিমালা, ১৯৬০-এর বাইরে গিয়ে ফর্ম-৬-এ কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না করার নির্দেশ দেওয়া।
৬. স্বাধীন তদন্ত কমিটি: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, সংশ্লিষ্ট নথি এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করা।
৭. নাম বাদ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ: বুথভিত্তিক কতজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করা। পাশাপাশি নাম বাদ দেওয়ার কারণ, ভোটারের বয়স ও লিঙ্গ উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে।
৮. নোটিশ ও শুনানির সুযোগ: যথাযথ আইনি নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে কোনো ভোটারের নাম বাদ না দেওয়া। ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে যোগ্য নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করারও আবেদন করা হয়েছে।
৯. এসআইআর স্থগিত: অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা।
১০. অতিরিক্ত নির্দেশনা: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন মনে করলে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি
রোববার ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতাদের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রোববার রাতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তিনি বিরোধী নেতাদের সময় দিতে পারবেন না। বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে শুনানি চলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এরপরও সোমবার মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যান রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতারা। পুলিশের বাধার মুখে কিছু সময় ধস্তাধস্তির পর তাঁরা অন্য পথ দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণের কাছে পৌঁছান।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও রয়েছে তাঁদের কর্মসূচিতে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ চান বিরোধী জোটের নেতারা।