নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬ হাজার ৩১৪টি। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ হাজার ৫৪৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকদের পাশাপাশি পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরাও হতাহত হচ্ছেন। আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় অংশ ব্যবহার করেন কিশোর ও তরুণরা। তাদের মধ্যে দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, আইন প্রয়োগে ঘাটতি, মানসম্মত গণপরিবহনের সংকট ও অসহনীয় যানজটও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি কমাতে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমতে পারে।

দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

ছবির ক্যাপশন:
বেপরোয়া গতি ও অসচেতনতার কারণে বাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। প্রতীকী ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts