নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশে’ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে শাহ আলম অনিককে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অনিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—মামুন, আসলাম, মুন্না, শাহরিয়ার মাহমুদ এবং নাম প্রকাশ না করা আরও একজন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে প্রবেশ করে হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে হামলাকারীরা প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ আহত হন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রকল্পের মূল ফটকে গুলি চালিয়ে লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাঁচের গেট ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে অফিসকক্ষে ঢুকে কম্পিউটার মনিটর, ডিডিআর, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, টেবিল, চেয়ার ও আলমারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা এবং ২৩ টন রড নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি মোটর স্কুটার ও নির্মাণকাজের বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগও রয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ থেকেও টিভি, উচ্চক্ষমতার কম্পিউটার, সার্ভার, গিটার, ক্যামেরা, ট্রাইপড, মাইক্রোফোন, মেমোরি কার্ড, সাউন্ড কার্ড ও ফার্নিচারসহ ৩৭ ধরনের জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে এসব মালামালের মোট মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১৩ আসামির মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, শাহরিয়ার মাহমুদ, আবুল কাশেম, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্নার নাম রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।