নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সহসংক্রমণ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে হামের পাশাপাশি এডিনো ভাইরাসসহ অন্যান্য ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ করা ৩৬১ জন মৃত শিশুর বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের অনেকের শরীরে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া, সেপসিস, মেনিনজাইটিস ও এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা ছিল। এসব শিশুর প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ছিল দুই বছরের কম।
তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে। এ বয়সের ১৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর শূন্য থেকে পাঁচ মাস বয়সি ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত দুই হাজারের বেশি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া ৩০ শিশুর বিশেষ রেসপিরেটরি প্যানেল টেস্ট করে অর্ধেকের শরীরে এডিনো ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, হাম ও অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অন্যান্য ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরে প্রবেশ করে নিউমোনিয়া ও সেপসিসসহ নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক ভাইরাসের আক্রমণে হামে আক্রান্ত শিশুর শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে হামের সংক্রমণ ঠেকানোর ওপর।