
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলা ও বিচার কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে একটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে, আর পাঁচটি মামলা তদন্তাধীন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মামলায় বেনজীর আহমেদকে পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ মামলায় কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সম্পদের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও স্থানান্তর করেছেন। তদন্তে তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে অর্থপাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও তদন্তাধীন রয়েছে। দুদকের দাবি, বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের পর তার ব্যবহার বা বিনিয়োগের গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই কন্যা ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগেও সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুদকও তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেছে।