
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসব সাফল্যই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এশিয়া কাপ ও ২০২৭ বিশ্বকাপে বড় কিছু অর্জনের উদ্দেশ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে টাইগাররা।
মাত্র কয়েক মাস আগেও ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল সংশয়। কিন্তু ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
মিরাজের কাছে এই অর্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবার তার নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
অধিনায়ক মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের কাছ থেকে সম্মান আদায় করতে পারাও বড় অর্জন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, দেশের কন্ডিশন ও সামগ্রিক ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের ইতিবাচক মূল্যায়ন উন্নতিরই প্রমাণ।
তবে বর্তমান সাফল্যে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, গত এক বছরে দলের উন্নতি হয়েছে সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। নির্দিষ্ট পজিশনে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা, বিভিন্ন ভূমিকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং শক্তিশালী কম্বিনেশন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
মিরাজ বলেন, সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই দলের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোকে সেই বৃহৎ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার যে আক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটে রয়েছে, তা দূর করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
টানা চার সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এখন নতুন এক আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে আসন্ন বৈশ্বিক আসরে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে চায় মিরাজের দল।
বাংলাদেশের পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজ আগামী মাসে জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে।