নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ কয়েক বছর ধরে চললেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। দ্বিতীয় দফায় জমা পড়া ১২টি আবেদনের মূল্যায়ন এখনও শেষ হয়নি। ফলে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স কবে দেওয়া হবে বা কবে নাগাদ গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আবেদনগুলোর মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যায়ন শেষ হলে প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিতীয় দফার আহ্বানে ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল অপারেটর, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী এবং বিদেশি অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। সে সময় নীতিমালা প্রণয়ন করে আবেদন আহ্বান করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় কার্যক্রম এগোয়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নীতিমালায় পরিবর্তন এনে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, করপোরেট সুশাসন এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সব প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ নাও করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডিজিটাল ব্যাংকের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে। এসব ব্যাংকের কোনো শাখা, উপশাখা বা এটিএম থাকবে না। গ্রাহকরা ডিজিটাল মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা, লেনদেন, সঞ্চয় ও ঋণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। তবে বড় শিল্পে ঋণ দেওয়া বা ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ থাকবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পরই লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তাই বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts