নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আগামী ২০ আগস্ট দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোট নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভোটগ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে।
সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন ডাকতেই হবে—আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা যেতে পারে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের সময় নির্ধারণ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই হবে। বৈধ প্রার্থী একজন হলে ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন চালু থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তফসিলেই সংসদ সদস্যদের ভোটার হিসেবে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ভোটের স্থান হিসেবে সংসদ কক্ষ উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদের অধিবেশন ডাকতে পারে। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংসদের অধিবেশন ডেকে ভোট নেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এবার জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী হলে সংসদ সদস্যদের ভোটগ্রহণের প্রয়োজনও হবে না।
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে প্রার্থীকে নিজে সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাব এবং আরেকজনের সমর্থন প্রয়োজন।
একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকবে। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সমান ভোট হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts