নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিব্বতের দিকে ভূমিধসে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ার খবরের পর নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযানও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে নদীতীরবর্তী মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে।
ঝুঁকির মুখে থাকা রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নুয়াকোটের বিদুর ও ত্রিশূলী বাজারসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা বুলডোজার, অন্যান্য সরঞ্জাম এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও নদীতীরের কয়েকটি সড়কেও যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও দুই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসে ভোতে কোশি নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে তৈরি হওয়া হ্রদে দ্রুত পানি জমছিল। এক দিনের ব্যবধানে সেখানে পানির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২৫ লাখ ঘনমিটারেরও বেশি হয়।
শুক্রবার হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আরও বড় ধরনের ঢল নামার আশঙ্কায় চীনের উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts