নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি। ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজওয়ানুজ্জামানের আদালতে মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী থাকলেও এ পর্যন্ত নয়জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আগামী ২৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা ও তার ভাই অলক রায়ের পথরোধ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নীলাকে তার ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে নীলাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নীলার বাবা নারায়ণ রায় সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে মিজানুর রহমান, সাকিব হোসেন ও সেলিম পাহলানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
নীলার বাবা নারায়ণ রায় বলেন, মেয়েকে হারানোর পর ছয় বছর কেটে গেলেও তিনি এখনো বিচার পাননি। নিয়মিত আদালতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছেন তিনি।
তার অভিযোগ, মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে থেকে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তবে তিনি প্রতিহিংসা নয়, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান এবং দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তি প্রত্যাশা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে বিচার দ্রুত শেষ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে রাষ্ট্রপক্ষ চেষ্টা করছে।
মামলার তিন আসামিই একসময় জামিনে ছিলেন। তবে সাকিব আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২৪ মে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
অন্যদিকে আসামি সেলিমের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন লতা দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দেওয়া কেউ তার মক্কেলের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
নীলা সাভারের ব্যাংক কলোনির অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নাচের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা। মেয়েকে হারানোর পর পরিবার সাভার ছেড়ে উত্তরায় বসবাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts