নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত ঢাকা সেনানিবাসের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আসামিপক্ষ। তাদের দাবি, গুম ও নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করায় বিচারপ্রক্রিয়ায় আসামিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আইনে নির্দিষ্ট কোনো পর্যায় বা সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারকরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন।
শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী জেআইসি পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবী, ডিজিএফআই কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখে বিচারকরা প্রয়োজন মনে করলে একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে পারেন। তবে এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মামলায় নতুন কোনো প্রমাণ গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিভিন্ন মামলায় সাধারণত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পর এবং সমাপনী যুক্তিতর্কের আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নজির রয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ চলার সময় পরিদর্শনের মাধ্যমে বিচারকদের সামনে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত এলে তা আসামিপক্ষের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
জেআইসি পরিদর্শনের আবেদনের ওপর আসামিপক্ষকে যথাযথভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথাও জানান আসামিপক্ষের এই আইনজীবী।
তবে প্রধান কৌঁসুলি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উন্মুক্ত আদালতেই আবেদন করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষকে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, আইন অনুযায়ী বিচারকরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই জেআইসি পরিদর্শনের আবেদন করেন প্রধান কৌঁসুলি। আবেদনে গুমের পর ওই স্থানে বেআইনিভাবে আটকে রাখা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে সরেজমিনে ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল ৮ আগস্ট সকাল ১১টায় পরিদর্শনের দিন নির্ধারণ করেন। পরিদর্শন দলে বিচারকদের পাশাপাশি প্রসিকিউশন, আসামিপক্ষের আইনজীবী, ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, গণমাধ্যমকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের একাধিক নজিরও রয়েছে। বসনিয়া ও রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারকরাও মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।