নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

জাতীয় সংসদে ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকে অমুসলিমদের চাকরির সুযোগ রয়েছে কি না—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা হয়।
শনিবার বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই এ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না হলেও ইসলামিক ব্যাংকিংকে উৎসাহিত করা উচিত।
এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশ্ন তোলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ‘ইসলাম’ থাকলে সেখানে অন্য ধর্মাবলম্বীরা চাকরি করতে পারবেন কি না। তিনি দাবি করেন, অতীতে একজন হিন্দু প্রার্থীর চাকরির সুপারিশ করলে ধর্মের কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল।
জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে অমুসলিমদের চাকরির ক্ষেত্রে কোনো নীতিগত নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলে সে বিষয়ে তার নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে সংবেদনশীল ও সাম্প্রদায়িক ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি থাকলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারতেন।
পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বক্তব্য দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ চাকরি করেছেন এবং এখনও করছেন। তার নিজ এলাকাতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তি ওই ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এভাবে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের নীতিমালা ও কর্মসংস্থানে ধর্মীয় বৈষম্যের প্রশ্ন নিয়ে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা হলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts