নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আবেদনের পর বেসরকারি খাতের জন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেয় মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নীতিমালার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রস্তাবিত নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি গত ২৪ মে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে। পরে ২ জুলাই আবেদনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পাঠিয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী মতামত দিতে বলা হয়।
এরপর ১৪ জুলাই বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে বসুন্ধরার কারিগরি সক্ষমতার পাশাপাশি আইনি বিষয়, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির প্রভাব, সরকারি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সরকারের রাজস্বের বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আমদানি করা তেল সংরক্ষণ ও বিতরণের সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে কি না—এসব বিষয়ও পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। এসব বিষয়ে সুপারিশ দিতে কমিটিকে দুই কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল।
বসুন্ধরা গ্রুপ বছরে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুযোগ চেয়েছে। পাশাপাশি দুই লাখ টন পর্যন্ত অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিপিসিকে বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে খসড়া জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ এবং অন্তত ৬০ দিন জনমত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সরকার বলছে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পরই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।