
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা শুধু যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগই নয়, বরং কয়েক দশকের বৈরী সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাবেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। এতে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ শিথিল এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের জন্য এটি বড় ধরনের অর্জন। আন্তর্জাতিকভাবে অবরুদ্ধ শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে ইরানের পুনর্বাসন ও উন্নয়নে বিপুল অর্থায়নের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও সংশয় রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের নেতারা চুক্তিকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়া ইরান আপাতত নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে চাইবে না। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাই বেশি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে। আগামী দুই মাসের আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।