নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
বুধবার সকালে উত্তর নেপালের ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ার পর রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় হড়পা বান ও কাদাস্রোত নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের দুই পাশেই উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্যাব্রুবেসি ও তিমুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে বহু যানবাহন, ব্যবসায়িক পণ্য ও অন্যান্য সম্পদ ভেসে গেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় থাকা ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং গাইডসহ ৯৩ জন নেপালি নাগরিকের সন্ধান চলছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য রয়েছেন।
হড়পা বানের কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হেলিকপ্টার পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তীব্র বাতাসের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ভোতে কোশি নদীর ভাটির বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গত অনেক এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts